রিপোর্ট 380

ভোগান্তির চরম সীমায় দাঁড়িয়ে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন ও দালালের ফাঁদ

হোসনে মোবারক, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি :
ভোগান্তিতে পরেন জন্ম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিতে আসা প্রায় জনগণ। সরকারি নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত আদায় ও ইচ্ছে করে ভুল করে সংশোধনের জন্য বার বার আবেদন করতে হয় জনগণকে। এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীদের।

স্কুলে ভর্তি হতে, এসএসসি পরীক্ষা দিতে, পাসপোর্ট কিংবা বা ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চাইলে এরকম ১৮টি নাগরিক সুবিধার জন্য অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন এখন বাধ্যতামূলক। ১৬ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর চলবে না, লাগবে ১৭ ডিজিটের নতুন নম্বর।

কিন্তু এই নতুন নম্বর নিতে বা জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের। অভিযোগ রয়েছে, দালাল চক্রের সদস্যরা সরকারি অফিসগুলোতে জটিলতার মধ্যে ফেলে ঘুষ হাতিয়ে নেওয়ার ফাঁদ পেতে বসেছে।

চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৪নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা নিতে আসা মানুষের এমনি অভিযোগ। সোমবার দুপুরে চাঁদপুর রিপোর্ট প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী।

তারা বলেন, জন্ম নিবন্ধনে ২০০/ টাকা কারও কাছে ৩০০/ টাকা। আবার অনেকে আছে যাদের কাছে থেকে ৫০০/ টাকাও নেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৪নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের টোরামুন্সিরহাটের বদরপুর গ্রামের মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, জন্মনিবন্ধন বাবদ এখন পর্যন্ত ৮’শ টাকা নিয়েছে উদ্যোক্তা এবং সচিব। কিন্তু এখনও আমার জন্মনিবন্ধনের কাজ শেষ করতে পারেনি। ইচ্ছে করে জন্ম সাল ভুল দিয়ে সংশোধন বাবদ আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে এখন সংশোধন করছে না। সাংবাদিক দেখতে পেয়ে আরও একাধিক মানুষ এগিয়ে এসে জানায় তাদের অভিযোগ। তারা দাবি করে, দেখে দেখে তথ্য দিতে ভুল করে। আবার তাদের কাছ থেকেই আদায় করা হয় অতিরিক্ত অর্থ।

এই বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহসীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি পরিষ্কার বলে দিয়েছি সরকার নির্ধারিত ফি’র বেশি যদি কেউ নেয় তবে আমার কাছে যেনো অভিযোগ করে। আমি তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে এই বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

এই ব্যপারে পরিষদের সচিব মো. আমির হোসেন সোহেলের সাথে কথা বললে তিনি অন্য কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের এখানে সার্ভারে সমস্যা থাকে প্রায়। তাই নাগরিক সেবা দিতে আমাদের ঝামেলা পোহাতে হয়, যা সেবা নিতে আসা জনগণ বুঝতে চায় না।

উক্ত ইউনিয়নের নব নির্বাচিত ১ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. সৈকত মোল্লা বলেন, আমার কাছে এসব নিয়ে কোনো ছাড় নেই। আমার কাছে খবর আছে এখানে একটি দালাল চক্র কাজ করছে। আমরা দালাল চক্রটি ধরার চেষ্টা করছি। যদি ধরতে পারি তবে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

তবে অবৈধভাবে জন্ম নিবন্ধন থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলী হরি।

তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এমন কিছু কেউ করে থাকলে তাকেই এর দায়ভার বহন করতে হবে। ভুক্তভোগীকে বলুন আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করতে।

 21 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন