জিয়া

রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন খালেদা: বিএনপিতে আতঙ্ক

নিউজ ডেস্ক :

বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় এসেছেন। ৮১ দিন পর বাড়িতে আসার পর আস্তে আস্তে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। বেগম খালেদা জিয়া আগের চেয়ে অনেক সুস্থ রয়েছেন এবং তিনি স্বাভাবিক খাবার-দাবার খাচ্ছেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন।

তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো যে, এখন তিনি রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে যদিও তার সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ এখন নিয়ন্ত্রিত, শুধুমাত্র তার পরিবারের সদস্যরা ছাড়া কেউই বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারছেন না। তবে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আসার পরেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, দল সম্পর্কে বিভিন্ন রকম খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। আর এ ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করছেন বিএনপির তিনজন নেতা।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া সরাসরি যোগাযোগ করছেন এবং দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। একাধিক সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়া এমনিতেই কথা বলতেন, এখন তিনি কথা বলা আরো কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দলের বিভিন্ন বিষয়গুলোর ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট মনঃক্ষুণ্ণ এবং ক্ষুব্ধ বলে তাঁর সঙ্গে কথা বলা দলের নেতা অন্তত একজন নেতা নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে বিএনপিতে নতুন ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বিএনপির একজন নেতা বলছেন যে, একদিকে লন্ডন থেকে বিভিন্ন নির্দেশনার মাধ্যমে দল পরিচালনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে এখন যদি বেগম খালেদা জিয়া দলে সক্রিয় হন এবং তারেক জিয়ার সিদ্ধান্তের বিপরীতমুখী অবস্থান গ্রহণ করেন তাহলে বিএনপিতে কোন্দল এবং বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে পড়বে। কারণ বেগম জিয়া যে তিনজনের সঙ্গে দল নিয়ে কথা বলছেন তারা সকলেই তারেক জিয়া বিরোধী হিসেবে পরিচিত এবং এই ব্যক্তি গুলো যদি সক্রিয় হন, তাহলে অবশ্যই তারেক জিয়ার অবস্থান ক্ষুণ্ণ হবে।

বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তেমন ভাবে সম্পৃক্ত নন। তবে হঠাৎ করে তিনি কেন রাজনৈতিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন, এটি নিয়ে বিএনপির মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপি নেতারা বলছেন যে, সরকারের সাথে বেগম খালেদা জিয়ার যে সমঝোতা সেই সমঝোতার অংশ হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার কথা নয়। কিন্তু এখন সরকারই তাকে আবার রাজনীতির মাঠে নামছেন কিনা, এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে অনেকের সংশয় রয়েছে। কারণ, বেগম খালেদা জিয়া ২০২০ সালের ২৪শে মার্চ থেকে সরকারের বিশেষ বিবেচনায় জামিনে রয়েছেন এবং সেই সময় থেকে তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন না।

অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়ার যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সেটি পুরোপুরিভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত। আর এ কারণে অনেকে মনে করছেন যে, এখন সরকার বিএনপিকে বিভক্তি করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতির মাঠে নামছেন কিনা। তবে বেগম খালেদা জিয়াপন্থী কয়েকজন নেতা মনে করেন যে, বিষয়টি এমন নয়। বিএনপির যে অবস্থা এবং অনৈক্য এটিতে শঙ্কিত বেগম খালেদা জিয়া।

দলটি এখন নিঃশেষ পর্যায়ে চলে গেছে। এ জন্যই ঝুঁকি নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক বিষয়াদির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। আর বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হলেই তারেক জিয়ার আধিপত্য যেমন কমবে, তেমনি বিএনপিও রাজনীতিতে নতুন পথের দিশা পাবে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। তবে সরকারের প্রচ্ছন্ন সবুজ সংকেত ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে এমনটি বিশ্বাস করেন নাকি। তাহলে সরকারই কি বেগম খালেদা জিয়াকে মাঠে নামিয়েছেন? এটি এখন বিএনপিতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সব চেয়ে বড় কারণ। সূত্র : বাংলা ইনসাইডার

 37 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন