রিপোর্ট 497

শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষা

হোসনে মোবারক :

যদি মানুষ জানতো কেবল মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ-ই শুধুমাত্র ইবাদত নয়, বরং মানুষের উপকার করা, মানবতার জন্য কিছু করা, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও যেকোনো কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও দান-সাদাকাহও আল্লাহতায়ালার ইবাদতের সামিল। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানাও ইবাদাত। আল্লাহ যা আদেশ করেছেন, এবং যা করতে নিষেধ করেছেন (যেমন-ঘুষ, দুর্নীতি না করা) তা মেনে চলাও ইবাদাত। তাহলে এসব আদেশ-নিষেধ মেনে চললে তখন সমাজের চিত্র পৃথিবীর অন্য যেকোনো উন্নত সমাজের ও রাষ্ট্রের চেয়ে উন্নত হতে পারতো।

আমার দেশের মানসিকতা এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, রাষ্ট্রের সম্পদ মানে হরিরলুট। যার কাছে যেভাবে যাবে সে সেভাবে আত্মস্থ করবে, ধ্বংস করবে। এখান মানবিকতা, নৈতিকতা, ধর্ম বলতে কিছু থাকতে নেই। আবার এই মানুষগুলোই যখন ধর্মীয় অনুভূতি থেকে কোনো কাজ করবে, সহযোগিতা, দান, খয়রাত ইত্যাদি।

তখন এ কাজগুলো সমাজের তথা রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর তাই আমরা দেখি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাশা, গীর্জা, প্যাগোডা, সিনাগগ নির্মিত ইমারতগুলো সহস্র বছর দাঁড়িয়ে থাকে কালের সাক্ষী হয়ে। অপরদিকে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট সরকারি টেন্ডারকৃত যেকোনো ইমারত ভবন অল্প কিছু দিনের মধ্যে ভেঙ্গে-চূরে ধ্বংস হতে দেখা যায়। কারণ এসব কাজে ধর্মীয় কোনো অনুভূতি কাজ করে না।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার নিজ দেশে ৫৬০ টি মডেল মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। তার ই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনও করেছেন। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এখনো তা হস্তার করেনি। এরই মধ্যে খবর শোনা যায় বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ ভবনে ফাটলের খবর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যদি মডেল মসজিদ নির্মাণকে ধর্মীয় কাজ মনে করতো তবে মসজিদ ফাটলের মতো এমন সংবাদ দেশবাসী কখনই পেতো না। তাহলে আমাদের শূন্যতাটা কোথায়?

তাই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা হোক নৈতিকতার মনাদন্ডে দন্ডায়মান ও মানবিক। তখন স্বয়ংক্রিয় ভাবে আমাদের সকল কর্ম হবে কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধিশীল। আসুন আমরা এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা শুরু করি যেখানে জীবন গেলেও নৈতিকতাকে বিসর্জন দিবো না। দেশ জাতির উত্তরোত্তর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ হোক এই প্রত্যাশা করছি।

 106 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন