রিপোর্ট 448

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হত্যার বিচার চেয়ে দুদিন ধরে মরদেহ আঁকড়ে রেখেছেন বাবা

জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া :: প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে দুইদিন যাবত মরদেহ আঁকড়ে আছেন বাবা। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একটি ইটভাটার ট্রাকচাপায় নিহত হয় উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের টেকপাড়ার মো. আউয়াল মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (৭)। রাসেল স্থানীয় হরিপুর সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

সন্তানহারা বাবা আওয়াল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এলাকার একটি ইটভাটার অংশীদার ও ট্রাকমালিক মো. কাপ্তান মিয়াকে আমি বাধা দিই। তারা ট্রাক দিয়ে মাটি আনতে গিয়ে এলাকার সড়ক নষ্ট করে ফেলছিল। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাই। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে কাপ্তান মিয়া দলবল নিয়ে আমাকে হুমকি দেন। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তিনি তার কর্মীদের নির্দেশ দেন, ট্রাকের সামনে যা পড়বে সব মাটির সাথে পিষে দিতে। পরে সোমবার দুপুরে মাটির ট্রাকচাপায় আমার ছেলেকে ওরা মেরে ফেলেছে।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, এই ঘটনায় সোমবার রাতেই মামলা দায়ের করতে নাসিরনগর থানায় যাই। সেখানে আমার লেখা মামলা না নিয়ে খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন ওসি সাহেব। ওসি বলেছেন, যে উকিল দিয়ে মামলা লিখিয়েছি তার মামলা নেবেন না। থানায় মামলা লিখলে নেবেন। মঙ্গলবার বিকেলে মামলা নিতে এলাকাবাসীকে নিয়ে রাসেলের মরদেহসহ সড়ক অবরোধ করি। পরে পুলিশ এসে বললো মামলা নেবে। কিন্তু রাতে যে মামলা নিয়েছে তা হত্যা মামলা না। তাদের মনের মতো লিখে মামলা নিয়েছে।

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া জানান, নিহত শিশুর মরদেহটি এখনো কবর দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ নিহতের বাড়িতে এসেছে। তারা চেষ্টা করছেন মরদেহটি দাফন করার।

এই বিষয়ে জানতে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ সরকারের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে অভিযুক্ত মো. কাপ্তান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ট্রাকচালক ছেলেটিকে মারছে। এতে আমার কোনো দোষ নাই। আমি কাউকে কোনো হুমকি দিইনি।

সরাইল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ৩০৪/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে অভিযুক্ত কাপ্তান মিয়াসহ ৫ জানকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক আরিফুল ইসলাম জানান, আমরা নিহতের বাড়িতে এসেছি। মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

 40 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন