ভাগাড়

হাইমচর উপজেলার সদর আলগী বাজারের অলিগলি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত

যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তূপে পরিবেশ দূষণ অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

হাইমচর প্রতিনিধি :

হাইমচর উপজেলার সদর আলগী বাজারে অপরিকল্পিত ময়লা-আবর্জনা অব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত স্থান না থাকার কারনে। নষ্ট হচ্ছে খাল, নালা, পুকুর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বাজারের অলিগলির পরিবেশ। এ যেনো দেখার কেউ নেই। আবর্জনা ফেলার সঠিক স্থান না থাকায় ধংস হচ্ছে আশেপাশে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এতে করে করোনাকালীন সময়ে শ্বাসকষ্ট সহ নানান রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে। ভোগান্তি পোহাতে হয় স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের। দূষিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের মাঠের পাশের পরিবেশ গুলো। দ্রুত সমাধান না হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হবে এলাকাবাসী ও বাজারে আসা পথচারীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার আলগী বাজারের দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ৭নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ঘেষা ও আশেপাশে থাকা, বাসা বাড়ীর ও বিভিন্ন খাবার হোটেলের, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের পঁচা পরিত্যক্ত খাবার, দইয়ের গ্লাস খালিবাটি , ডিমের খোসা, পলিথিন, মুরগির নাড়িভুঁড়ি, প্লাস্টিকের বোতলসহ বাজারের নানা ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে যেখানে সেখানে পুকুর, খাল, ডুবায় ও রাস্তার পাশে। এতে জমাট কৃত আবর্জনার স্তূপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। দুর্গন্ধে চলাচলকারী স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী পথচারীরা সমস্যায় পড়ছেন। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকার বাসিন্দাও বাজারে আসা সাধারণ মানুষরা। এ অবস্থায় সচেতন ছাত্র-ছাত্রী ও পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পরিবেশ সুরক্ষার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারনে। রাস্তাঘাটে দুর্গন্ধে ও দূষণে অনেকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই অবস্থা নিত্যদিনের হলে শিশুরাও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। তা ছাড়া দুর্গন্ধের জন্য বাসা বাড়ী ঘরের জানালা খুলতে পারছেন না। আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসাও বন্ধ করেছে। তারা আরও বলেন, বাজার ব্যবসায়ি কমিটির তদারকি না থাকায় এই পরিস্থিতি। একদিকে বাজারের আবর্জনার দুর্গন্ধ এবং অন্যদিকে খালের দূষনে এলাকার বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে জানা গেলো।

দূর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানাজায়, স্কুলে আসার সময় রাস্তার পাশে ও ভবনের পিছনে ড্রেনে কাঁচাবাজারের ময়লা পানি ও আবর্জনার যেখানে সেখানে ফেলার কারণে দুর্গন্ধ আর বায়ু দূষণে, চলাচল করতে পারছি না। এতে আমাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আমরা শিক্ষকদের বলার পরও কোনো সাড়া পাইনি। বিগতদিনে ক্লাস করতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে দুর্গন্ধের কারনে। আমরা এ থেকে মুক্তি পেতে চাই।

আলগী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম কোতোয়াল বলেন, আমাদের বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলার সঠিক স্থান না থাকায়, ব্যবসায়ীরা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলছেন। তবে এটি আমাদের জন্য খুব ক্ষতিকর। বাৎসরিক নিলাম হলেও সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্মকর্তারা তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না। হাট বাজার উন্নয়নে এগিয়ে আসেনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বাজার কমিটি অনেকটা নিরুপায় বলে জানান তিনি ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাই থোয়াইহলা চৌধুরী বলেন, পরিবেশের ক্ষতিসাধন করতে দেওয়া যাবে না। সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যালয় ও বাজারের আশেপাশের রাস্তার পরিবেশ নষ্ট করতে দেওয়া যায় না। বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি এ নিয়ে দায় এড়াতে পারেনা। অবশ্যই পরিবেশ নষ্টের কারনে দুর্গন্ধ থেকে বিভিন্ন রকম রোগ-জীবাণু ছড়াতে পারে। এই বিষয়টি নজরে আছে, আমরা পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

 26 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন