ps cr

হাজীগঞ্জ সড়ক উপবিভাগের অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সড়ক উপবিভাগ এখন অনিয়মের দুর্গ।সড়কের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণসহ সড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করার কথা থাকলেও জনবল সংকট আর সীমাহীন অনিয়মেই চলছে হাজীগঞ্জ সড়ক উপবিভাগের নামমাত্র কার্যক্রম।

হাজীগঞ্জ সড়ক উপবিভাগ সূত্রে জানা গেছে,অনুমোদিত ২৬টি পদে জনবল থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১০টি পদে।বহুবছর যাবত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নেই।উপ-সহকারী প্রকৌশলী ৩জনের স্থলে আছে ১জন তাও তিনি মাঝে মাঝে অফিসে আসেন।ওয়ার্ক সুপারভাইজার নেই,কার্যসহকারী পাঁচ জন থাকার কথা থাকলেও তিন সড়ক শাখা নিয়ন্ত্রণ করছেন তিন জন।অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক নেই,কম্পিউটার অপারেটর নেই,এম.এল.এস.এস নেই,ড্রাইভার নেই,২০১০ সাল হতে বিটুমিন মিস্ত্রি নেই।সড়ক শ্রমিক পাঁচ জন থাকার কথা থাকলেও আছে দুই জন।মকিমাবাদ ও কালিয়াপাড়া স্টক ইয়ার্ড গার্ড নেই,গার্ড নেই,হেলপার নেই, চকিদার নেই,ঝাড়ুদার নেই।

হাজীগঞ্জে উপ বিভাগীয় প্রকৌশলীর স্থলে কাজ করছেন চাঁদপুর সওজ উপ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী। উপ সহকারী প্রকৌশলীর স্থলেও চাঁদপুর অফিসের দুই জন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।ওয়ার্ক সুপারভাইজারের পদ ২০১০সাল থেকেই শূণ্য।২০১৮ সাল থেকে অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিকের পদ শূণ্য রয়েছে। কম্পিউটার অপারেটর এর পদ ও শূণ্য। দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কাজ করছেন।

অনুসন্ধানকালে জানা গেছে,হাজীগঞ্জ শাহরাস্তি,কচুয়া উপজেলায় সড়কের সম্পত্তি বেদখল করে রাতারাতি দোকানপাট নির্মাণ করে রেখেছে ভূমিদস্যুরা।সবই সম্ভব হয়েছে হাজীগঞ্জ সড়ক উপবিভাগে কর্মরত অসাধু কতিপয় কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্যের কারণে।দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে উচ্ছেদ অভিযান না চলায় ভুমিদস্যুরা যে যার মত সরকারী ভুমিতে পাকা ইমারত নির্মাণ করছে।

এদিকে চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও কচুয়া হাজীগঞ্জ গৌরিপুর সড়কে প্রতিনিয়তই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল।এর জন্য সড়ক উপ বিভাগের কর্তা ব্যক্তিদেরই দায়ী করছেন স্থানীয় নেটিজেনরা।সড়কে নেই কোনো গতি নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা সংম্বলিত সাইনবোর্ড,নেই গুরুত্বপূর্ণস্থানে গতি নিয়ন্ত্রক।বাঁক নির্দেশক সাইনবোর্ড নেই।সড়কের কার্পেটিং উঠে গেলেও সড়ক উপ বিভাগের দায়িত্বরত কর্তাব্যক্তিরা জেনেও না জানার ভান করে থাকেন।এসব দেখার যেনো কেউ নেই।সড়ক উপ বিভাগে কর্মরতদের দায়িত্বে অবহেলা আর সীমাহীন অনিয়মের কারণে হাজীগঞ্জ সড়ক উপবিভাগের অনিয়ম যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ সহকারী (অঃ দাঃ) মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন,আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। হাজীগঞ্জ দায়িত্ব পালন করছেন সড়কের উপ সহকারী প্রকৌশলী মারুপ হোসেন।তিনিই হাজীগঞ্জ সম্পর্কে ভালো বলতে পারবেন।কেউ সড়কের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 24 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন