রিপোর্ট 529

বিএনপি বনাম জাতীয় পার্টি : ন্যায়-নীতি ও অন্যায়ের সাথে আপোষ করিনি

১৯৮৫ সালে এরশাদ সরকার আমলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়। উক্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এমপি মতিন সাহেব এবং জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করেন তোফাজ্জল হায়দার নসু চৌধুরী। তখন নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলাম আমি আরও সদস্য ছিলেন বি এম কলিমুল্লাহ, মরহুম আলী আহমেদ মিয়া, মরহুম আব্দুল আওয়াল মিয়া এবং মরহুম আলী আজ্জম মজুমদার। কমিটির সদস্যরা দৈনিক ৪০০ টাকা করে সম্মানী পেত। একমাত্র আমি-ই কোনো সম্মানী গ্রহণ করতাম না।

এ নির্বাচনে এমপি মতিন সাহেব ১০ হাজার ভোটে পাস করেন। সাবেক কমিশনার সিরাজ খান তখন জাতীয় পার্টি করতেন। এমপি মতিন সাহেব সিরাজ খানের গ্রামের লোক হওয়াতে সে মতিন সাহেবের নির্বাচন করেন। যেহেতু এরশাদ বিএনপিকে জোর করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে তাই আমি জাতীয় পার্টিকে খুব ঘৃণা করতাম।

উপজেলা নির্বাচনের সময় বেলঘরে আমার একটি জনসভা ছিল। আমি বেলঘরে বিএনপির জনসভায় গিয়ে দেখি সিরাজ খান মঞ্চে বসা। সিরাজ খানকে মঞ্চে দেখে আমার মাথা গরম হয়ে যায়। আমি অনেক কষ্টে নিজের মেজাজ কন্ট্রোল করি।

জনসভায় বক্তারা বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। আমি বক্তৃতা দেওয়ার আগে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য সিরাজ খানের নাম ঘোষণা করেন ঘোষক। সিরাজ খান উঠে দাঁড়ালো বক্তৃতা দেওয়ার জন্য।

আমি হঠাৎ উঠে গিয়ে মাইকের সামনে গিয়ে বললাম, “সিরাজ খান অসুস্থ, তিনি বক্তৃতা দিতে পারবেন না”।

এরপর ঘোষককে বললাম তুমি আমার নাম ঘোষণা কর, আমি বক্তৃতা দেবো। সিরাজ খান রাগে, ক্ষোভে, অপমানে মঞ্চ থেকে যখন-তখন চলে গেলেন। জাতীয় পার্টির লোক আমার বিএনপি মঞ্চে বক্তৃতা দেবে এটা কখনো কোনো অবস্থাতেই আমি মেনে নিতে পারবোনা।

জনসভা শেষ করে বলিয়া গ্রামের দিকে হাঁটতে হাঁটতে আসলাম তখন আমাদের ছাত্রদলের একজন ছেলে এসে আমাকে বলল, “ভাই , সিরাজ খান ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে আপনাকে আক্রমণ করার জন্য। আপনি নাকি সিরাজ খানকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দিয়েছেন, তাকে বক্তৃতা দিতে দেননি। সিরাজ খান এমপি সাহেবকে কথা বলেছেন”।

আমি বাজারে এসে সোজা এমপি সাহেবের নির্বাচন অফিসে গেলাম। নির্বাচন অফিসটি ছিল খসরু মিয়ার গদির ঘর। সেখানে গিয়ে দেখি এমপি সাহেব লোকজন নিয়ে বসে আছেন।

অফিসে ঢোকার পর তিনি আমাকে বসতে বলেন। আমি এমপি সাহেবকে বেলঘরের বিষয়ে বিস্তারিত ঘটনা বললাম এবং সিরাজ খান ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে আছে আমাকে আক্রমণ করার জন্য সে কথা বললাম। এমপি সাহেব আমাকে বলেন, ” ধৈর্য ধরো “।

Hakim Mizanur Rahman New ad

এমপি সাহেব জানতেন আমি খুব বদমেজাজী এবং নীতির সাথে আপোষ করিনা। এমপি সাহেব এক ঘন্টা পর সিরাজ খানকে ডেকে আনেন এবং পাশের একটি রুমে তাকে নিয়ে যান। এমপি সাহেব তাকে যুক্তি পরামর্শ দিয়ে ব্যাপারটি বুঝিয়ে বললেন। তারপর সিরাজ খানকে নিয়ে সে আমার সাথে আপোষ করিয়ে দেন।

আমার কথাঃ- আমি চিরজীবন ন্যায়-নীতি ও অন্যায়ের সাথে আপোষ করিনি আর কখনো করবও না, ইনশা-আল্লাহ।

লেখক : আবদুল মান্নান খান বাচ্চু, সাবেক মেয়র- হাজীগঞ্জ পৌরসভা।
প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক- হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সাবেক সভাপতি উপজেলা বিএনপি।

 160 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন