ভয়ে সাহিত্য কেন্দ্র

জুজুর ভয়ে সাহিত্য কেন্দ্র

হোসনে মোবারক (আজাদ) :

সাহিত্য চর্চা সবাই করে না। আর যারা করে তাদের মানবিক কোমল মনোবৃত্তি থেকে করে। নিজের খেয়ে নিজের খরচে অন্যের উপকারের নিমিত্তে যে কলমের কর্ষণ চলে। সে কর্ষণে সৃষ্টি হয় সাহিত্য। যার ফল ব্যক্তি পরিবার সমাজ রাষ্ট্র তথা জগৎ-সংসারের কল্যাণ। আর তাই লেখক সাহিত্যিক সাধু পুরুষ বা সিদ্ধ পুরুষ হয়।

কিন্তু স্বার্থকে সামনে রেখে যে সাহিত্য চর্চা করা হয়, সে চর্চার ফলে কোনো কিছু সৃষ্টি হলেও হতে পারে। কোনো ফল বয়ে আনলেও আনতে পারে ; সে ফল কেবলই ব্যক্তিকে লাভবান করে, জগৎকে নয়। এটা প্রাকৃতিক শৃঙ্খল।

আজ আমরা দেখছি সাহিত্য নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোও রাজনীতির নিয়তির যাঁতাকলে পিষ্ট। আর তাই কোনো কিছু সৃষ্টি হয় না, হলেও সেটাকে সৃষ্টি বলা যায় না। তারপরেও যা সৃষ্টি তাতে জগৎসংসারের কোনো কাজে আসে না।

যারা সাহিত্যক নন, তাদের নাম কামানোর জায়গা সাহিত্য নির্ভর কোনো প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তবুও বাস্তবতার নিরিখে যা দেখছি তা হলো, সাহিত্যের উপর সৃষ্টি হওয়া দুধের সরের মত মন্ডের অপেক্ষায় থাকা গোষ্ঠি সাহিত্য প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি করতে। সাহিত্য নিয়ে কথা বলার অধিকার তাদের নেই। কিন্তু পাওয়ার অব এটর্নি যখন সাহিত্যিক হতে চায়, তখন পাওয়ারের ছত্রছায়ায় থাকতে, একটু স্নেহধন্য হতে তোষামদারের ইতিহাসে পূর্ণ ছিল বহু সময়।

বহু প্রকৃত সাহিত্য মনা, কবি লেখক ছিটকে গেছে এই তেলেসমতি কান্ড কারখানা দেখে। আর লেজুড়বৃত্তি গুলো চটকদারদের সাথে ভীষণ নাম কামিয়ে চলছে। পুরুষকৃতও হয়েছে। অনেক। এখন দেখার সময় দিন বদলেছে কি না! সময় যখন পরিবর্তন নিয়ে আসে, তখন পরিবর্তন নিশ্চিত হয়ে যায়।

সাহিত্য অঙ্গনকে সাহিত্যিকদের হাতে ছেড়ে দিন। সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ হোক, পৃথিবী নতুন কিছু পাক। ছিটকে যাওয়া প্রতিভাগুলো আপন মহিমায় জ্বলে উঠুক। এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

 125 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন