kk

এটা নিছক স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, হত্যা!

বিনোদন ডেস্ক

হিন্দি, তামিল ও বাংলাসহ একাধিক ভাষায় গান গেয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে আসীন বলিউড গায়ক কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ। ভক্তরা যাকে ‘কেকে’ নামেই সম্বোধন করেন। মঙ্গলবার (৩১ মে) সবাইকে শোকে ভাসিয়ে ৫৩ বছর বয়সে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

কলকাতার নজরুর মঞ্চে গাইতে এসে অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি। অনেকেই এটাকে শুধু মৃত্যু নয়, হত্যা হিসেবে দেখছে। বিষয়টি নিয়ে চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড়।

গতরাতের (৩১ মে) সে ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন নির্মাতা ও সংগীত পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। তিনিও মনে করেন, এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।

তার লেখা স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‌‘‘সারারাত ধরে কলকাতার নজরুল মঞ্চে কেকে’র কনসার্টের ছোট ছোট ক্লিপ আর সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের লেখা থেকে যা বুঝলাম, তাকে জাস্ট মেরে ফেলা হয়েছে। কোনও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ দর্শক প্রবেশ করায় আয়েজকরা।

সেটাকে থামাতে না পেরে নজরুল মঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাদের সব এসি বন্ধ করে দেয়। কেকে বার বার জানান, তার এই গরমে গাইতে কষ্ট হচ্ছ, গানের ফাঁকে বার বার তোয়ালে দিয়ে ঘাম মুছছিলেন! একটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়ামে হাজার কিলো লাইটের মাঝে এসি ছাড়া কী করে টিকে থাকা সম্ভব, তারপর আবার গান করে যাওয়া!

কেকে’র শেষ পরিবেশনা

ভিড় ঠেকাতে এসি বন্ধ রাখার সময় নজরুল মঞ্চ কর্তৃপক্ষের একবারও কি মনে হয়নি মানুষটা এই গুমোট আর গরমে দমটা নেবেন কী করে! গাইবেন বা কী করে! শিল্পীর প্রতি পৃথিবী বরাবরই নির্দয়, শিল্পীকে সম্পূর্ণ নিংড়ে নিয়ে তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়াই পৃথিবীর কাজ।

Hakim Mizanur Rahman New ad
কেকে’র মতো এমন অসামান্য জনপ্রিয় একজন শিল্পী দীর্ঘদিন মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অবহেলিত ছিলেন। খুব একটা কাজ পাচ্ছিলেন না, অথচ তার হিট গানের কোনও কমতি ছিল না! শিল্পীর একমাত্র লোভ পারফর্ম করে যাওয়া। আমার খালি বারবার মনে হচ্ছে দীর্ঘদিন পর এত বিগ ক্রাউডের সামনে তার নিশ্চয়ই গাইতে খুব ভালো লাগছিল।

তাই তিনি এই গরম আর গুমোটকে উপেক্ষা করে হাসিমুখে গাইছিলেন। অথচ তিনি জানতেনই না এরা তাকে স্রেফ নিংড়ে নিয়ে শেষ করে দিতে এসেছে! আমি এটাকে নিছক স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মানতে চাই না, এটা হত্যা! একজন মানুষ একজন শিল্পী হিসাবে আমি এই হত্যার বিচার চাই।’’

 138 সর্বমোট পড়েছেন,  4 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন