Editorial

হাজীগঞ্জে নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি, সচেতনতা প্রয়োজন

সম্পদাকীয়
আমরা (চ্যানেল আই অনলাইন ১ ফেব্রæয়ারি) প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ‘ নিরাপদ খাদ্য মানুষের সাংবিধানিক অধিকার’। তিনি আরো বলেছেন, ‘খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা গবেষণার ওপর এখন গুরুত্ব দিয়েছি। ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনসাধারণের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি’।

আমরা জানি যে, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৩ নং আইন) এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় খাদ্য নিরাপদতা বিষয়ক সরকারি কর্তৃপক্ষ, যা একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানরূপে কাজ করে এবং এটির সদর দপ্তর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।মুস্তাক হাসান মোঃ ইফতেখার হচ্ছেন এই কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার পক্ষ থেকে ন্যাশনাল টিম লিডার নাসের ফরিদের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়ন করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক রুপদানে সরকারকে সাহায্য করছে।

চাঁদপুর রিপোর্টে প্রকাশিত ‘ হাজীগঞ্জের বিসমিল্লাহ বেকারির কেকে মৃত টিকটিকি, নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি’ শিরোনামের স্বচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি খাদ্য উৎপাদনের করুণ পরিস্থিতি সম্পর্কে। আমরা এমনটা মোটেও আশা করি না। প্রকাশিত সংবাদে স্পষ্টত জানা গেছে যে, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বিসমিল্লাহ বেকারির খাবার কেকে মৃত টিকটিকি পাওয়া গেছে। এসব মালিক ও কর্মচারীদের খামখেয়ালীপনারই একটি অংশ। এটা নিশ্চিত যে, তারা ভোক্তা অধিকার আইন সম্পর্কে জানে না। তাছাড়া খাদ্য উৎপাদনের নিরাপত্তা সম্পর্কেও তাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। সেজন্যে আমরা দেখেছি যে, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। গত ৭ জুন মঙ্গলবার ওই ইউনিয়নের কাকৈরতলা গ্রামের বাাসিন্দা নেছার আহম্মেদ চৌধুরীর নামীয় আইডি থেকে একটি এক পিছ খাবার কেকের ছবি পোস্ট করা হয়। ওই ছবিটিতে মৃত টিকটিকি দেখা যায়।

আমরা আরো জেনেছি যে, টিনের তৈরি ঘরে আলো বাতাসের স্বল্পতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বেকারি খাবার প্রস্তুত করে আসছে। যা অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে তৈরি করা খাবার! বেকারিতে নোংরা পরিবেশে বিস্কুট, পাউরুটি, কেকসহ যাবতীয় বেকারি খাবার প্রতিদিনই বিক্রি করে মালিকপক্ষ লাভবান হচ্ছেন দিনের পর দিন। যে পরিবেশে বেকারিটি খাবার তৈরি করছে, এ খাবার গুলো খেলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএসটিআই, স্যানিটেশন বিভাগ, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরের চোখে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেকারিটি পরিচালনা করে আসছেন। জানা গেছে, বেকারির পরিবেশ নিয়ে মালিক বিল্লাল হোসেন নিজেই স্বীকার করেন বলেন, এ বেকারির যে পরিবেশ তা খাবার তৈরির উপযোগী নয় হাজীগঞ্জ উপজলো স্যানটিরী ইন্সফক্টের শামছুল ইসলাম রমজি বলনে- তাকে একাদকিবার শতর্ক করা হয়ছে কন্তিু সে কোন পাত্তাই দিচ্ছে না । এ থেকে এটা স্পষ্ট যে, এসব বিষয় নিয়ে মালিক কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

সুতরাং আমরা মনে করি, এই বেকারীর তৈরি প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হোক ও তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা করে ভোক্তাদের অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য আইন প্রতিষ্ঠিত করা হোক। কেননা আমরা খাদ্যে আরো নিরাপত্তা প্রত্যাশা করি।

 90 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন